.

সাইট রোল

আমাদের সম্পর্কে

সাইট বার্তা

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১১

ভৌতিক গল্প : বুড়ো ফ্র্যাঙ্ক ও আমি


মোঃ আনোয়ার হোসেন

স্কলারশিপটা খুব তাড়াহুড়া করেই হয়ে গিয়েছিল। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না বিলেত যাব কি যাব না। পরিবারের সবাই বলল এমন সুযোগ হাতছাড়া করাটা ঠিক হবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম স্কলারশিপটা এক্সেপ্ট করে ফেলার। প্রায় ষোল ঘন্টা জার্নি করে যখন হিথ্রো এয়ারপোর্টে এসে পৌছলাম তখন ভোর প্রায় পাঁচটা। এয়ারপোর্টে আমাকে রিসিভ করার জন্য ইউনিভার্সিটি থেকে যাকে পাঠানো হয়েছিলসে আমার পি,এইচ,ডি প্রফেসার ফ্র্যাঙ্ক গ্রীণ এর অধীঃনস্থ আরেক পি,এইচ,ডি স্টুডেন্ট। নাম ম্যাথিউ জেরী।
বয়স ত্রিশকি বত্রিশ হবে। সুদর্শন যুবক। গাড়িতে জানতে পারলাম পার্টটাইমে পি,এইচ,ডি করবার সাথে সাথেসে ইউনিভার্সিটির স্টাফ হিসেবেও কাজ করছে আর তাই আমাকে রিসিভ করার দায়িত্বটি সে সেচ্ছায় গ্রহণ করে। আমার পি,এই্চ,ডির বিষয় হল চাইল্ড সাইকোলজি আর ম্যাথিউ পি,এইচ,ডি করছে ডিপেনডেন্ট এল্ডারস সাইকোলজি নিয়ে। আমাদের দুজনের বিষয়ে খানিকটা মিলও আছে বলা যেতে পারে। কারন বৃদ্ধ বয়সে মানুষেরমন অনেক সময় শিশু সুলভ আচরণ করে আর তাছাড়া তাঁর বিষয়টি সেইসব বৃদ্ধদের সাথে জড়িত যারা শেষ বয়সে তাদের সন্তান সন্ততির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যেমনটি তাঁরা শিশুকালে নির্ভরশীল ছিলেন তাদের বাবা মার উপর। আর এই মিলের কারনেই হয়ত ম্যাথিঊ আমাকে রিসিভ করারব্যাপারে আগ্রহী হয়েছিল। গাড়ি করে হোস্টেলে পৌছতেপ্রায় দুঘন্টা লেগে গেল। আমাকে আমার রুমের চাবি দিয়ে ম্যাথিউ চলে গেল, যাবার আগে বলে গেল প্রফেসর ফ্র্যাঙ্ক আজ বিকেলে আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসবেন। আমি যেন বিকেলের আগেই ঘুম থেকে উঠে পরি। রুমে ঢুকে আমি সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল দুপুর তিনটার দিকে। এটা কি এখানকার বিকেল কিনা বুঝতেপারলাম না। আরেকটু ঘুমাতেইচ্ছা হচ্ছিল কিন্তু ফ্র্যাঙ্ক আবার চলে আসেন কিনা তাই ভেবে আর ঘুমালাম না। আমি স্যুটকেস খুলে কাপড় গুছাতে শুরু করলাম এমন সময় দরজায় কে যেন ধাক্কা দিল। দরজা খুলে দেখলাম এক বৃদ্ধ হাসিমুখেদাঁড়িয়ে আছেন। ইনি ফ্র্যাঙ্ক হবার কথা না। কারন ফ্র্যাঙ্ক এর সাথে আমার যেসব ইমেইল আদান প্রদান হয়েছিল তাতে করে আমার অনুমান ফ্র্যাঙ্ক এরবয়স পঞ্চাশ কি পঞ্চান্ন হবে। আর এই বৃদ্ধের বয়স কম করে হলেও পঁচাত্তর। বৃদ্ধ হাসিমুখে আমার দিকেহাত বাড়িয়ে দিয়ে অদ্ভুত ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললেন, হ্যালো জোবেইর ( জোবায়ের)। আই এমফ্র্যাঙ্ক! হাউ আর ইউ ডুইং? আমি তখন বুঝতে পারলাম ইনিই আমার প্রফেসার। জবাবে হাসিমুখে আমিও তাঁরদিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম।মনে মনে বললাম, তুই এই সময় এলি কেন বুড়ো? আমি তভেবেছিলাম আরেকটু পড় আসবি। বুড়ো যেন আমার মনের কথা বুঝতে পারল। সে বলল, এম আই টু আরলি জোবেইর? আমি বললাম, নো নো ইটস অলরাইট। আমার অবশ্য তখন ইচ্ছা হচ্ছিল আরেকটু ঘুমিয়ে নিতে, কিন্তু এটা ত আর প্রফেসর কে বুঝতে দেয়া যাবেনা। কারন এর হাতেই এখন আমার সব কিছু। বুড়ো চাইলে আমি পি,এইচ,ডি ডিগ্রী পেতেও পারি আবার না চাইলে আমাকে এম,ফিল ডিগ্রী দিয়েও ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এরপর ফ্র্যাঙ্ক আমাকে অনুরোধের সুরে জিজ্ঞেস করে, খুব বেশী ক্লান্তবোধ না করলে তাঁর সাথে এখন বাহিরে গিয়ে এক কাপ কফি খেতে আমি আগ্রহী কিনা? যদিও আমার সেই মুহুর্তে বাহিরে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিলনা কিন্তু আমি তাঁকে মুখের উপর নাও করতে পারলাম না। রুম থেকে বেরিয়ে আমরা দুজন নিচের কফি শপে গেলামসময়টা বিকেলের দিকে হওয়ায় কফিশপে বসবার জায়গা পেলাম না। কাগজের মগে কফি নিয়ে আমরা দুজন বাহিরে কোথাও বসার জায়গা খুঁজতে লাগলাম। সেদিন রবিবার হওয়ার কারনে বাহিরের বেঞ্চগুলাতেও ছিল ছাত্রছাত্রীদের ভীর। দুটা সাইনবোর্ডে দেখতে পেলাম লেখা সামনে চার্চ আর সামনে পার্কফ্র্যাঙ্ক আমাকে পার্কে যাবার প্রস্তাব দিল। আমি ফ্র্যাঙ্ক এর সাথে কফিতে চুমুক দিয়ে পার্কের দিকেএগোতে থাকলাম। তখন সন্ধ্যা প্রায় হবে হবে করছিল। কফির সাথে আমার হঠাত সিগারেট ধরাবার ইচ্ছা হল, তাই পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করলাম। আমার সিগারেট এর প্যাকেট বের করা দেখে ফ্র্যাঙ্ক কে কিছুটা বিরক্ত মনে হল, তাই প্যাকেট আবার পকেটে ভরে ফেললাম। তা দেখে ফ্র্যাঙ্ক ভদ্রতার খাতিরে বলল, তুমি চাইলে সিগারেট ধরাতে পার, তবে আমার সিগারেটের ধোঁয়ায় সমস্যা হয় বলে আমাকে একটু ক্ষমা করতে হবে। তুমি চাইলে আমি তোমার জন্য পার্কে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারি, তুমি আস্তে ধীরে সিগারেট খেতে খেতে পার্কে আসতে পার। আমি এর জবাবে বিনয়ের সুরে বললাম, তার কোন প্রয়োজন নেই। আমি এমনিতেই খুব বেশী সিগারেটখাইনা। তাই এখন না খেলেও কোন অসুবিধা নেই। আমি আসলে তখন মিথ্যা বলেছিলাম কারন আমার দিনে প্রায় একটা প্যাকেট শেষ করতে হত। ফ্র্যাঙ্ক যেন আমার মিথ্যা ধরে ফেলে নিজ মনেই মিটি মিটি হাসছিল। তারপর অল্প কিছুদূর এগোনোর পর আমরা পার্কের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।ফ্র্যাঙ্ক এর আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল সে এখন আমাকে আমার রিসার্চ এর টপিক উপর ছোটখাট একটা লেকচার দেওয়ার চেষ্টা করবে। -আমি কি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি জোবেইর? -অবশ্যই ফ্র্যাঙ্ক। -তুমি এত দূর থেকে এখানে কেন পি,এইচ,ডি করতে এসেছ? এ প্রশ্নে আমি কিছুটা বিব্রতবোধ করলাম। কিন্তু ফ্র্যাঙ্ক কে তা বুঝতে না দিয়ে বললাম, -আমি চাইল্ড সাইকোলজি নিয়ে খুব বেশী আগ্রহী বলেই এখানে এসেছি। সেটা আপনাকে আগেই বলেছি ইমেইলে। তাছাড়া উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য সবচেয়ে কাছের দেশ বলতে আমরা বিলেতকেই জানি। আমেরিকা তআরো অনেক দূরে। -আই সি। তোমার পুরা নাম তোজোবেইর বিন ইসলাম তাইনা? -হ্যাঁ। -তুমি কি ইসলাম ধর্মে পুরোপুরি বিশ্বাস কর? -হঠাত এ কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন? -কেন জিজ্ঞেস করছি তা কাল জানতে পারবে। আগে আমার প্রশ্নের জবাব দাও। ফ্র্যাঙ্ক এর এরুপ আচরণ আমার কাছে কিছুটা রুক্ষ্মমনে হয়েছিল। তবে তাঁর সাথে আমি কোন বাক বিতর্কে যেতে চাচ্ছিলাম না বলে জবাব দিলাম, -হ্যাঁ পুরোপুরি বিশ্বাস করি। ফ্র্যাঙ্ক তখন সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, তাহলে ত তোমারশয়তানকেও বিশ্বাস করা উচিত তাই না জোবেইর?
এর জবাবে আমি কি বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একবার মনে হচ্ছিল ফ্র্যাঙ্ক আমাকে কথার জালে ফাঁসিয়ে যাচাই করে দেখতে চাচ্ছে আমি কতটা আধুনিক আর তাঁর অধীনে পি,এইচ,ডি করার উপযুক্ত কিনা। তাই আমি বললাম, আমি আসলে এইসব ব্যাপার নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। তবে আমি ভূত টুতে বিশ্বাস করি না। ফ্র্যাঙ্ক তখন কিছুটারেগে গিয়ে বলল, আমি কিন্তু ভূতের কথা বলিনি জোবেইর। আমি শয়তানের কথাবলেছি। শয়তান আর ভূত এক জিনিস নয়। আমি তখন প্রসংগ পাল্টাবারজন্য হাসিমুখে বললাম, দেখুন একটু পরেই সন্ধ্যা হবে, আমি আসলে এই মুহুর্তেএই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি না। আমি একটু ভীতু টাইপের। একথা বলে নিজেই হাসতে শুরু করলাম। ফ্র্যাঙ্ক আমার হাসি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে জিজ্ঞেস করল, -তুমি কি জানো তোমার এই স্কলারশিপটা তুমি এত তাড়াহুড়ো করে কেন পেয়েছ? এখনত ফেব্রুয়ারী মাস। এ মাসে ত সেশান শুরু হয় না। সেশান শুরু হয় সেপ্টম্বরমাসে। -সেশান কোন মাসে শুরু হয় তা আমার জানা নেই। কিন্তু আপনারাই ত আমাকে এখন আসতে বলেছেন। - তোমাকে আসতে বলা হয়েছে কারন তুমি যেই বিষয় নিয়ে গবেষনা করতে যাচ্ছ তা নিয়ে আগে গবেষনা করেছিল ভারতীয় এক ছাত্র।সে হিন্দু ছিল বলে শয়তানে বিশ্বাস করত না। তাই সে তাঁর গবেষনা সম্পূর্ন করতে পারেনি। ফ্র্যাঙ্ক এর এমন অদ্ভুত কথায় তখন আমার কিছুটা মেজাজ খারাপ হল। আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েই ফ্র্যাঙ্ককে জিজ্ঞেস করলাম, -কি হাস্যকর কথা বলছেন আপনি। শয়তান এর সাথে আমার রিসার্চের সম্পর্ক কি? -তাও কাল জানতে পারবে। তবে এখন শুধু জেনে রাখ ভাসকার কখনোই আমাকে বিশ্বাস করেনি। কারন সে ছিল ভারতের গোল্ড মেডেলধারী একজন স্কলার। আমি অনেকভাবেই তাঁর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সে আমার অস্তিত্ব অগ্রাহ্য করেছিল। আর তাই পরে তাকে আমি পাগল বানিয়ে দিয়েছি। সে এখন আছে আগ্রার পাগলা গারদে। আমার কেন জানি তখন খুব ভয়করতে শুরু করল আর মনে হতে লাগল ফ্র্যাঙ্ক যা বলছে তা সব সত্যি। আর যদি সত্যিহয় তাহলে এটা আমার সেই প্রফেসর ফ্র্যাঙ্ক না। এটা অন্য কেউ। একথা মনে করার পর আমি আর ভয়ে কোন কথা বলতে পারলাম না। ফ্র্যাঙ্ক আপন মনে বলে গেল, -দেখ জোবেইর তুমি নিজেই জান এ ধরনের স্কলারশিপ পাওয়া তোমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। তুমিবাংলাদেশের সাধারন একজন স্কলার। তোমার মাস্টার্সের রেজাল্ট তেমন ভাল ছিলনা। শুধুমাত্র অনার্সে তুমি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলে। তাই ফ্র্যাঙ্ক তোমাকে ভাসকার এর পুরা ঘটনাটা গোপন করে ইমেইল করেছিল স্কলারশিপের অফার দিয়ে, যেন তুমি সহজেই তা গ্রহন কর। এতে ভাসকার এর করা অসমাপ্ত রিসার্চ সম্পূর্ণ হবে আর ফ্র্যাঙ্ক এর অধীনেও আরেকজন স্কলারের নাম যুক্ত হবে। ফ্র্যাঙ্ক ভাসকার এর কথাটা গোপন করেছিল কারন কোন ভাল স্কলার অন্যের করা রিসার্চ থেকে পি,এইচ,ডির রিসার্চ কখনোই শুরু করতে চাইবে নাতাই সে তোমাকে বেছে নিয়েছিল। আর এখন যদি তুমি আমার কথা না শুন তাহলে কিন্তু তোমার অবস্থা ভাসকার এর চেয়েও করুন হবে কারন তুমি আমাকে বিশ্বাস কর। আর বিশ্বাস কর বলেই তোমার স্নায়বিক চাপের উপর তোমার কোন নিয়ন্ত্রন থাকবে না। হয়ত এদেশের শীতল মাটিতেইতোমাকে সারাজীবন ঘুমিয়ে থাকতে হবে। ফ্র্যাঙ্ক এর কথা শেষ হবার সাথে সাথেই হঠাত চার্চের ঘন্টা বাজতে শুরুকরল। সন্ধ্যা তখন পুরোপুরি হয়ে এসেছে। আশেপাশে আবছা অন্ধকার। ফ্র্যাঙ্ক এবার আমাকে কিছুটা ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করল, চুপ করে আছ কেন? বল তুমি কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ চাও? আমি কিছুটা সাহস নিয়েই বললাম, হ্যাঁ চাই। আমার জবাব শুনে ফ্র্যাঙ্করাগে ফোস্ ফোস্ করতে শুরু করল। এক পর্যায়ে প্রচন্ডরেগে গিয়ে সে বেঞ্চ থেকে উঠে দাড়াল আর পার্কের ঘাসে শিশুদের মত হামাগুড়ি দেওয়া শুরু করল। খুবই অদ্ভুদভাবে লক্ষ্য করলাম ফ্র্যাঙ্ক এর হাত পা আর মাথা পুড়ে কাল হয়ে গেছে, শুধু পরনেরপোশাকটা অক্ষুন্ন আছে। ফ্র্যাঙ্ক এর তখন মুখমন্ডল বলে কিছু ছিল না। যা ছিল তাকে শুধুমাত্র মাংসপিন্ড বলা চলে। তবে চোখের জায়গাতে বড় কাল দুটি গর্ত হয়ে আছে। ফ্র্যাঙ্ক তখন পাঁচ-ছয় বছর বয়েসী শিশুদের মত গলায় কাঁদতে কাঁদতে বলল, এই দুষ্ট লোকটা আমাকে চুলোর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর চুলার সুইচ অন করে দিয়ে আমায় অনেক্ষন শক্ত করে ধরে রাখল। তারপর আমাকে বলল লাইটার জ্বালাতে। আমিযেই লাইটার জ্বালালাম আর অমনি আমার সারা শরীরে আগুন ধরে গেল। তারপর থেকে আমি ওইখানে একা একা শুয়ে থাকি। আমাকে আমার আম্মুর কাছে নিয়ে চলো। একথা শুনার পর আমি পাশে তাকিয়ে ভাল করে দেখার চেষ্টা করলাম। অন্ধকারের জন্য স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম না, তবে বুঝতে পারলাম পার্কের পাশেই একটা কবরস্থান রয়েছে। এরপর আমি ভয়ে বুকের মাঝে প্রচন্ড চাপ অনুভব করতে শুরু করলাম। আমি তখন ভয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। সম্ভবত আমি সেখানেই জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফিরে পাবার পর জানতে পারলাম আমি গত রাতে পার্কের বেঞ্চের কাছে পরেছিলাম। চার্চের পাদ্রীরা সন্ধ্যায় প্রার্থনা সেরে পার্কের ভিতর দিয়ে যাবার সময় আমাকে পরে থাকতে দেখে আর ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে আসে। পরে ফ্র্যাঙ্ক এর সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখলাম ফ্র্যাঙ্ক এর চেহারা অবিকল গতকালের সেইবুড়োর মত কিন্তু বয়স ঠিকই পঞ্চাশের ঘরে। আমি ফ্র্যাঙ্ক কে সব ঘটনা খুলে বললাম। কিন্তু ফ্র্যাঙ্ক আমার কোন কথাই বিশ্বাস করল না। বরং মনে করল আমি আমার পরিবার থেকে এতদূর এসে একাকিত্ববোধ করছি বলে এখন দেশে যাবার বাহানা করছি। ফ্র্যাঙ্ক কে ভাসকার এর কথা জিজ্ঞেস করায় সে ভাসকার এর পাগল হয়ে যাবার কথা স্বীকার করল এবং সে যে ভাসকার এর ঘটনা টা গোপন করেছিল তাঁর জন্য তাকে কিছুটা লজ্জিতওমনে হল। কিন্তু আমি কিভাবে ভাসকার এর কথা জানলাম সেই যুক্তি দিতে চাইলে সে সেটা উড়িয়ে দিয়ে বলল, এটা জানা কোন বড় ব্যাপার নয়। হয়ত হোস্টেলের কারো কাছ থেকে জেনেছি কিংবা ম্যাথিউই
আমাকে বলেছে। এ নিয়ে ফ্র্যাঙ্ক এর সাথে আমার তীব্র বাক বিতন্ড লেগে যেতে শুরু করেছিল, আমি তখনসিদ্ধান্ত নিলাম দেশে ফিরে যাব। শেষে ম্যাথিউর সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করলাম আমাকে একটা প্লেনেরটিকেট কিনে দেবার ব্যাবস্থা করে দিতে।
ম্যাথিউ সানন্দে আমার অনুরোধে রাজি হল এবং নিজে ড্রাইভ করে আমাকে এয়ারপোর্টে পৌছে দিল। গাড়িতে যাবার সময় শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল ফ্র্যাঙ্ক সেজে যে আমার কাছে এসেছিল সে বুড়োর বেশ ধরেছিল কেন? কিন্তু কোনভাবেই কোন যুক্তি খুঁজে বের করতে পারলাম না। গাড়ি থেকে নামবার সময় ম্যাথিউ আমাকে জিজ্ঞেস করল আমাকে ভিতরে এগিয়ে দিবে কিনা। আমি বললাম না থাক দরকার নেই। এই বলে তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করতে যাব এমন সময় খেয়াল করলাম ম্যাথিউ অদ্ভুত ভংগিতে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।সে তখন অবিকল সেই বুড়োর মত গলা করে বলল, তোমাকেও আমায় বিশ্বাস করবার জন্য ধন্যবাদ। 

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন